17 July, 2025

তুমি রয়ে যাবে

বাংলার যে পলিমাটির সৌরভ  তোমার অস্তিত্ব জুড়ে 

তাকে আমি বড্ড ভালোবাসি।

কত যাযাবর, কত পথিক,সন্ন্যাসী, কত দরবেশ, 

উদাসী কবি,

জনেজনে  খুঁজে ফিরে আমার সে অস্তিত্ব, 

আমার বোধের-প্রেমের একটু স্বরূপ। 

পথিক ছুটে চলে তবু থামে না তো পথ,

ঘোড়ায় তো চড়ে অনেক বিজয়ী বীর,

তবুও তোমার চলার সে পথ আমায় 

ভিন্ন কথাই বলে।

তোমার সে পথ এতো বিস্তৃত, লোকমুখে কত শুনি,

তাই নিরালায় আপন খেয়ালে আমি তব দান স্মরি। 

কোথা তুমি ছিলে,কোথা হতে এলে,কোথা ছিল তব গ্রাম?

জন্ম বাংলায় না হলেও বাংলায় আছো,আর রবে জানতাম।

তুমি তো ছিলে শ্যামল হৃদয়, যে মন বাদল ঘেরা

তাইতো বুঝতে ব্যথিতের অনুযোগ, অভিমান। 

তোমার সে অস্পষ্ট ছবি তাই খেয়ালি মনেই আঁকি।

মানুষের প্রতি ভালোবাসা তো তুমিই শেখালে মোরে,

ভেদাভেদ আর বৈষম্যের দেয়াল আর রইল না।

চোখে যেন দেখি তোমার সত্যের 

সে তলোয়ার

যেন বাংলার যত অলি-গলি-পথ,নদ-নদী সব চেনা।

তোমার সত্য সেই তলোয়ার ছুটে এমন সে যুদ্ধে,

রক্তলোলুপ, অত্যাচারী আর শোষকের বিরুদ্ধে। 

নিপীড়িত-অত্যাচারিতের রক্তচিহ্ন তব হৃদে পীড়া দেয়,

আর তবে কোন বসে থাকা নয়,সংগ্রাম চলবেই।

শতাব্দীবেষ্টিত বাংলার যে সংগ্রাম তাতে 

তুমিও শামিল হলে,

পথিক কবির যত কথকতা ছিল,আমাদের শোনালে।

তোমার কথা আমি বলিনা,

আমি বলি শাহ জালাল তুমি বাংলাকে

ঠাঁই হিসেবে নিলে আজীবনের তরে,

বাংলা মায়ের কোলে যার চির ঠাঁই তাকে

কি ভালো না বেসে পারা যায়?

হে হযরত,

তোমার পদক্ষেপ আমার

চেতনার সাদা মেঘ,

শাহ জালাল, তুমি যে বাংলায় ছিলে

তার আকাশ ছিল যে নীল।

সময় বয়ে যায়, পলিমাটি নয়

মানুষের ভুলোমন।

কিন্তু এতো উচ্ছ্বল নদীজল 

যা পথিকের তৃষ্ণা মেটায়।

হে শাহ জালাল, 

একদিন হয়তো বাংলার পথ-ঘাট 

ভুলে যাবে তব পদচিহ্ন, 

তবুও বলব বাংলার রূপে

শ্যামল বনানী,নদীর স্বরূপে তুমি রয়ে যাবে।

✍️:কাজী আহমদ এয়ার খান নাহিয়ান 

06 May, 2025

খুনিদের ফাঁসি দাও

তোমার শব্দ অমলিন কেন,হৃদয়ের কথা বলতে?
তোমার সে স্মৃতি জাগরিত কেন,এই ভিন পথ চলতে?
 
তোমার শব্দ জেগে ওঠে কেন,আসে কেন বারেবার?
বেভুল পথের পথিকের তরে কোন কথা আছে তার?

স্থির, দৃঢ,অচপল ছিলে;হৃদয়ের প্রত্যয়
সত্যের কথা বলতে তো কভু পায়নি সে কোনো ভয়।

আজ চেয়ে দেখো ধূসর আকাশ মলিন কোন সে পাপে,
পাষাণের হৃদ বিদ্বেষী হয়ে থরথর করে কাঁপে।

তোমার চাহনি পথে পথে কেন ছাপ রেখে সদা যায়?
মলিন দুয়ারে তব কিছু স্মৃতি কেন মনে পড়ে যায়? 

তোমার কাফেলা ছুটেছিল যবে পথ থেকে প্রান্তরে,
তুরের গিরি কি মনে রেখেছিল তব স্মৃতি অন্তরে?

আজি সেই কথা নৈঃশব্দেই আনে ভারি কোলাহল, 
হৃদয়ের পটে অশ্রু এমনি প্রবাহিত টলমল।

কিইবা আমি বলতে পারি?নেই কোন ভাষা আর,
রক্ত লোলুপ পিশাচ সবারি ধ্বংস যে অনিবার। 

যেই বা যারা বহায়েছে স্রোত রক্তের কন্ঠ তীরে,
তাদের কন্ঠ সমেত শরীর যায় যেন ঠিক চিরে।

যেই বা যারা লাগায়েছে গলে পাগড়ির পাকে ফাঁশ,
দুনিয়াতে হবে,জাহান্নামেও ফাঁসিতে তাদের নাশ।

যেই বা যারা ধৃষ্টতা করে করেছিল গতিরোধ, 
তাদের ধ্বংস দুনিয়াতে হোক,আখিরাতে হোক শোধ।

যেই বা যারা করেছে হৃদয়ে বিদ্বেষ চাষাবাদ, 
জালিমের কভু নেই, ক্ষমা নেই;তারা হোক বরবাদ।

শান্তির পথে যেই মজলিশ,তাকে এই প্রতিদান?
সত্যের তরে যেই সন্ধান,তাকে এই প্রতিদান?

যেই বা যারা করেছে এমন হোক তারা ভ্রংশ,
জাহান্নামের লাকড়ি হয়েছে, ফলাফল ধ্বংস। 

সময় চলেছে ক্রমাগত আর বিচার হয়েছে কিছু? 
খুনিদের ঠাঁই হোক সিজ্জিনে, কিবা তার আরো নিচু।

শহীদ নুরুল ইসলাম ফারুকী তব কথা পড়ে মনে,
হৃদয় গহীনে হাহাকার জাগে,হারাবার কথা শুনে।

তোমার হৃদয়ে থাকা সব প্রেম আকাশে ছড়িয়ে দাও,
খুনিদের টুঁটি চেপে ধরে বলো, "খুনিদের ফাঁসি দাও।"

✍️:কাজী আহমদ এয়ার খান নাহিয়ান

তুমি রয়ে যাবে

বাংলার যে পলিমাটির সৌরভ   তোমার অস্তিত্ব জুড়ে   তাকে আমি বড্ড ভালোবাসি। কত যাযাবর, কত পথিক,সন্ন্যাসী, কত দরবেশ,  উদাসী কবি, জনেজনে  খুঁজে...

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ