17 July, 2025

তুমি রয়ে যাবে

বাংলার যে পলিমাটির সৌরভ  তোমার অস্তিত্ব জুড়ে 

তাকে আমি বড্ড ভালোবাসি।

কত যাযাবর, কত পথিক,সন্ন্যাসী, কত দরবেশ, 

উদাসী কবি,

জনেজনে  খুঁজে ফিরে আমার সে অস্তিত্ব, 

আমার বোধের-প্রেমের একটু স্বরূপ। 

পথিক ছুটে চলে তবু থামে না তো পথ,

ঘোড়ায় তো চড়ে অনেক বিজয়ী বীর,

তবুও তোমার চলার সে পথ আমায় 

ভিন্ন কথাই বলে।

তোমার সে পথ এতো বিস্তৃত, লোকমুখে কত শুনি,

তাই নিরালায় আপন খেয়ালে আমি তব দান স্মরি। 

কোথা তুমি ছিলে,কোথা হতে এলে,কোথা ছিল তব গ্রাম?

জন্ম বাংলায় না হলেও বাংলায় আছো,আর রবে জানতাম।

তুমি তো ছিলে শ্যামল হৃদয়, যে মন বাদল ঘেরা

তাইতো বুঝতে ব্যথিতের অনুযোগ, অভিমান। 

তোমার সে অস্পষ্ট ছবি তাই খেয়ালি মনেই আঁকি।

মানুষের প্রতি ভালোবাসা তো তুমিই শেখালে মোরে,

ভেদাভেদ আর বৈষম্যের দেয়াল আর রইল না।

চোখে যেন দেখি তোমার সত্যের 

সে তলোয়ার

যেন বাংলার যত অলি-গলি-পথ,নদ-নদী সব চেনা।

তোমার সত্য সেই তলোয়ার ছুটে এমন সে যুদ্ধে,

রক্তলোলুপ, অত্যাচারী আর শোষকের বিরুদ্ধে। 

নিপীড়িত-অত্যাচারিতের রক্তচিহ্ন তব হৃদে পীড়া দেয়,

আর তবে কোন বসে থাকা নয়,সংগ্রাম চলবেই।

শতাব্দীবেষ্টিত বাংলার যে সংগ্রাম তাতে 

তুমিও শামিল হলে,

পথিক কবির যত কথকতা ছিল,আমাদের শোনালে।

তোমার কথা আমি বলিনা,

আমি বলি শাহ জালাল তুমি বাংলাকে

ঠাঁই হিসেবে নিলে আজীবনের তরে,

বাংলা মায়ের কোলে যার চির ঠাঁই তাকে

কি ভালো না বেসে পারা যায়?

হে হযরত,

তোমার পদক্ষেপ আমার

চেতনার সাদা মেঘ,

শাহ জালাল, তুমি যে বাংলায় ছিলে

তার আকাশ ছিল যে নীল।

সময় বয়ে যায়, পলিমাটি নয়

মানুষের ভুলোমন।

কিন্তু এতো উচ্ছ্বল নদীজল 

যা পথিকের তৃষ্ণা মেটায়।

হে শাহ জালাল, 

একদিন হয়তো বাংলার পথ-ঘাট 

ভুলে যাবে তব পদচিহ্ন, 

তবুও বলব বাংলার রূপে

শ্যামল বনানী,নদীর স্বরূপে তুমি রয়ে যাবে।

✍️:কাজী আহমদ এয়ার খান নাহিয়ান 

06 May, 2025

খুনিদের ফাঁসি দাও

তোমার শব্দ অমলিন কেন,হৃদয়ের কথা বলতে?
তোমার সে স্মৃতি জাগরিত কেন,এই ভিন পথ চলতে?
 
তোমার শব্দ জেগে ওঠে কেন,আসে কেন বারেবার?
বেভুল পথের পথিকের তরে কোন কথা আছে তার?

স্থির, দৃঢ,অচপল ছিলে;হৃদয়ের প্রত্যয়
সত্যের কথা বলতে তো কভু পায়নি সে কোনো ভয়।

আজ চেয়ে দেখো ধূসর আকাশ মলিন কোন সে পাপে,
পাষাণের হৃদ বিদ্বেষী হয়ে থরথর করে কাঁপে।

তোমার চাহনি পথে পথে কেন ছাপ রেখে সদা যায়?
মলিন দুয়ারে তব কিছু স্মৃতি কেন মনে পড়ে যায়? 

তোমার কাফেলা ছুটেছিল যবে পথ থেকে প্রান্তরে,
তুরের গিরি কি মনে রেখেছিল তব স্মৃতি অন্তরে?

আজি সেই কথা নৈঃশব্দেই আনে ভারি কোলাহল, 
হৃদয়ের পটে অশ্রু এমনি প্রবাহিত টলমল।

কিইবা আমি বলতে পারি?নেই কোন ভাষা আর,
রক্ত লোলুপ পিশাচ সবারি ধ্বংস যে অনিবার। 

যেই বা যারা বহায়েছে স্রোত রক্তের কন্ঠ তীরে,
তাদের কন্ঠ সমেত শরীর যায় যেন ঠিক চিরে।

যেই বা যারা লাগায়েছে গলে পাগড়ির পাকে ফাঁশ,
দুনিয়াতে হবে,জাহান্নামেও ফাঁসিতে তাদের নাশ।

যেই বা যারা ধৃষ্টতা করে করেছিল গতিরোধ, 
তাদের ধ্বংস দুনিয়াতে হোক,আখিরাতে হোক শোধ।

যেই বা যারা করেছে হৃদয়ে বিদ্বেষ চাষাবাদ, 
জালিমের কভু নেই, ক্ষমা নেই;তারা হোক বরবাদ।

শান্তির পথে যেই মজলিশ,তাকে এই প্রতিদান?
সত্যের তরে যেই সন্ধান,তাকে এই প্রতিদান?

যেই বা যারা করেছে এমন হোক তারা ভ্রংশ,
জাহান্নামের লাকড়ি হয়েছে, ফলাফল ধ্বংস। 

সময় চলেছে ক্রমাগত আর বিচার হয়েছে কিছু? 
খুনিদের ঠাঁই হোক সিজ্জিনে, কিবা তার আরো নিচু।

শহীদ নুরুল ইসলাম ফারুকী তব কথা পড়ে মনে,
হৃদয় গহীনে হাহাকার জাগে,হারাবার কথা শুনে।

তোমার হৃদয়ে থাকা সব প্রেম আকাশে ছড়িয়ে দাও,
খুনিদের টুঁটি চেপে ধরে বলো, "খুনিদের ফাঁসি দাও।"

✍️:কাজী আহমদ এয়ার খান নাহিয়ান

31 December, 2024

 *হাদায়েক্বে বখশিশ

প্রেম কিছু ছিল,সবটাই দিল
দুয়ারে প্রেমাস্পদে,
কথামালা তাই,ফুল হয়ে যায়
জানায় অর্ঘ্য পদে।

যেই স্মৃতি মনে,জেগে ওঠে ক্ষণে
ভাবনায় প্রতিবার,
এবার তবে কি,তাঁরি রূপ দেখি
সে-ই হলো নির্ভার?

ওগো বেরেলীর,হৃদ কোণে নীর
প্রেমবান মহারাজ, 
আছি হেথা দূরে,তান কিছু মোরে
দান করে দাও আজ।

ধূলিকণা জাগে,তব লেখা আগে
শুধু ওই মদিনার, 
বিরহ বচন, করেছে রচন
অশ্রু বিরহে তাঁর।

তোমার লেখায় প্রেম আসে তাই;
জুড়ে যায় কবিতাতে,
তোমার কলম লিখে অনুপম
বোধের স্বরূপ সাথে।

এত প্রেম তবে,ছড়ালো যে নভে
কোথা পেলে তুমি তা?
এত প্রেমসুর,এত সুমধুর 
অপূর্ব সে কবিতা। 

প্রেমাস্পদের,দান যবে ফের
মিলে যায় হৃদ মাঝে,
তব কথাগুলো, যেন পেঁজা তুলো
কবিতাতে তাই সাজে।

ওগো মহারাজ,দাও তবে আজ
কিছু তান কবিদের, 
জাগালো যে প্রাণ,চাইছি সে দান
হাসসান হিন্দের।

পেলাম তখনি তব প্রেমধ্বনি
হাদায়েক্বে বখশিশ,
যখনি বাতাসে আসে,ধীরে আসে
মদিনার শুভাশিস।

ওগো প্রাণনাথ,আলা হাযারাত
তব কথা দাও বলে,
যাই খুঁজে ফিরি,যেন শুধু সিঁড়ি 
চলে ছুটে অতলে।

মদিনার কথা,এক প্রেমপ্রথা
মুকুলিত হৃদয়ে, 
ছুটে চারদিক,সে যে নির্ভীক
দমেনা কভু সে ভয়ে।
২.১২.২৪
✍️:কাজী আহমদ এয়ার খান নাহিয়ান

07 June, 2024

প্রকৃতির গান


মনে পড়ে শুধু, বারেলির কথা

শুধু তার প্রতিদান;

ভাবুকের তরে,দেয় প্রাণ ভরে

জাগরিত আখ্যান।


এনে দেয় ভোর,তাঁর প্রেম সুর

প্রেমভাবে যায় উড়ি,

বাদলের রাশে,ঝিরঝিরে আসে

আবার ইলশেগুঁড়ি।


করে যে অধীর,শীতল সমীর,

প্রকৃতিতে সৌরভ,

হৃদয়ের রাজে এ অর্ঘ্য সাজে

সপে লভি গৌরব।


প্রেম মনোহরা,মুছে দেয় জরা,

যাই ছিল হেথা আজ।

তাও কিরে তবে,হৃদয়ে নিরবে

আসেনি কো মহারাজ? 


তাঁর আগমন,হয়েছে আপন

প্রেমিকের স্মৃতিপটে,

আলোছায়া দিয়ে,আকাশ ছাপিয়ে 

সুদূর মেঘের রথে।


দিয়েছে জানান অপূর্ব তান

সবুজের  আত্নীয়,

যদি দান তাঁর,উছলে আবার

মোরে তার কিছু দিও।


তবে মনে নেই, বাদলের সেই

কাব্যের কথামালা?

তরুলতা সব,রইল সরব

জপনে সাল্লে আলা।


ফিরে পেয়ে প্রাণ,নিকুঞ্জে গান

গেয়ে পাখি তোলে সুর;

স্মৃতি পড়ে মনে,মলিন বদনে

 মদিনা সে কত দূর । 


ক্লান্ত কাব্য বিষন্ন চক্ষে,

অদূরেই সেই পথ!

দূরে অমানিশা, মদিনার দিশা

দেয় আ'লা হযরত।


'সম্মুখে দেখো,তায় লিখে রেখো;

ওই সুর আছে হেথা।'

পথিকের আঁসু, ভগ্ন হৃদয়ে,

দেয় এনে যত ব্যথা।

✒️:কাজী আহমদ এয়ার খান নাহিয়ান 

20.03.23


Photo:Adobe Stock

02 May, 2024

যে শহরে কবিরা মরে যায়

যে শহরে কবিরা মরে যায়, 

সে শহরে মানুষ কিভাবে বাঁচে?

ভাবলেশহীন চলন্ত রোবট কতগুলো

যেথা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। 


সে শহরে কি মানুষ বাঁচে,

যেথা আছে শুধু মানসিকতার দাসত্ব? 

চাকচিক্যের বর্ণনায় ক্লান্ত আর ক্লান্ত

আমরা–

মানবিকতা দিয়েছি বর্গাচাষীর কাছে।


যে শহরে যাপিত জীবন কেবল যন্ত্র-যন্ত্র খেলে,

সে শহর রঙিন, হয় মুখরিত, অর্থ মন্ত্র পেলে।

রঙিন তবুও নয়– সাদাকালো,

জীবনের দেখা ছাঁচে। 


এখন আর কেউ হয়না কবি,

কবিতায় আনে যেন মৃত্যু, 

রঙিন ফুলের সুবাসে পাখিরা সেই সে কবে,

কিচিরমিচির করে ডেকেছিল গাছে গাছে। 


যে শহরে কবিরা মরে যায়, 

সে শহরে কি মানুষেরা আর বাঁচে?

বঞ্চিত হৃদে হাহাকার ধ্বনি

আর ধূর্তরা শুধু নাচে।


মানুষ যেন মানুষ নয়কো,মানুষ শুধুই নামে,

তবে কবিরাও চলবে কি স্বার্থের পিছু পিছু?

কবিতার তরে এতই অবজ্ঞা! আস্তাকুঁড়েই যাও,

তব কাঙ্ক্ষিত পরজীবীদের পাছে পাছে।


সে শহরে কি কবিরা বাঁচে

যেথা মানুষই অনস্তিত্ব? 

নয়? তবে,তা হবে শীঘ্রই 

যদি হৃদয় না রয় কাছে।


কবির লাশের উপর দিও তখন 

ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফুল,

হেরে তায় শরতের সাদা মেঘও হবে বিহ্বল;

দিও ফিরিয়ে তারে আদিম আবাসে,

মুগ্ধতা যেথা আছে। 


✍️:কাজী আহমদ এয়ার খান নাহিয়ান 

২৩.১২.২৩;

চকবাজার, চট্টগ্রাম

10 June, 2023

অনুভাবনা



মদিনার পথ-ধূলি খুঁজে ফিরি যেই,
নিমিষে হারিয়ে ফেলি,নেই সেথা নেই।

মদিনার দিশা যবে এ হৃদয়ে বুনি
কবেই হারিয়ে ফেলি সে প্রমাদ গুনি।

মদিনার পঙক্তিরা - যে এতো চঞ্চল?
রয় না আমার কাছে,সে মুক্ত সচল।

মদিনা পানেই টানে কলমের লেখা
মিলুক অন্তত এর রাসুলের দেখা।

হৃদয় বীণায় জাগে তোমার সে দান
মদিনায় নিয়ে যাও, শোনাও আযান।

ভবেতে ঝঞ্ঝাট কিবা যত বাধা আসে,
আশা তব দয়া যেন থাকে সদা পাশে।

মরণে নাহিক ভয়,পেলে তব দেখা,
সার্থক জীবন তাহে ,সার্থক এ লেখা।

আযাব কবরে, শুধু তুমিই সহায়
দিও তব দয়া-দান,খোদার দোহাই।

কিয়ামতে যবে ঘোর ঘনায়ে বিপদ,
তোমার শরণ চাহি, ঠাঁই হবে পদ।

হাশরে বিচার দিনে সুপারিশ তব,
দয়া মাঝে তাই খুঁজে আমি বেঁচে রব।
 
মদিনার সুর ছুটে অবিরাম পথে,
এবার জাগাও সূর্য এ হৃদয় হতে।

04 June, 2023

দিগন্ত প্লাবিত দান

 
দিগন্ত প্লাবিত দান

দয়ার বাদল বরষে চৌদিক,
আকুল আত্মায় আলোক দিতে,
"এ কে এসেছেন "ধ্বনিছে দিকে 
শহর,নগর,অলি-গলিতে।।

এ কোন জনের গুঞ্জন?
উম্মত তরে অশ্রু বর্ষণ,
খোদার পরম,রহম এমন,
যা দিয়েছেন প্রিয় নবিতে ।।

এ কে এসেছেন-দুঃখ বন্ধ,
এ কার তরে নতুন ছন্দ,
সৃষ্টিজগত,বিশ্ব ছুটে,
কদমতলে করম নিতে ।।

শোষকরা আজ ভয়ে পালায়,
চেয়ে দেখো দয়াল আসায়,
আর্ত এবার মুচকি হাসে,
 পেল ফিরে অগণিতে ।।

এ কে এনেছেন প্রশান্তি কথা?
সাম্যবাদ আর স্বাধীনতা,
ঘুচল সকল কলুষ প্রথা,
যাই ঘটেছে আগে,অতীতে।।

অনেক হলো-হে পথিক এবার,
দেখাও আমায় নবির দরবার,
সবুজ গম্বুজ দেখব একবার,
নূরের শহরে পথ চলিতে।।

স্বর্গকানন পুষ্প সাজায়,
স্বর্গের বাদশারই রওজায়,
কত শত ছুটে দরজায়,
প্রেমিক এমন প্রেমগলিতে।। 

25 April, 2023

বখশিশ

 




 ঈদের খুশি বাড়বে দ্বিগুণ
করবে যবে দান
ঈদের আমেজ দাও ছড়িয়ে
হাসুক তবে প্রাণ।

মেঘের রাজ্যে আকাশ যেমন
প্রার্থী হয়ে রয়,
ঈদের খুশি আনুক তেমন
হৃদয়ে বিনয়।

রোজার শেষে ঈদ এনে দেয়
প্রীতির কেমন সুর?
দিগন্তে ওই আলোর আভায়
আনে যেমন ভোর।

এমন আলোয় সাম্য দেখায়
জাগাও তব হৃদ,
শান্তিবার্তা দাও ছড়িয়ে
রাঙাও এবার ঈদ।

লেখাঃ কাজী আহমদ এয়ার খান নাহিয়ান 

23 March, 2023

খোদারই দয়ার ধারা




 খোদারই          দয়ার ধারায় আত্মাহারা,
                          করে দেয় যে মন,
যেথা যায়         সেথা মিলে।আকুল এ দিল,
                           সাজদাতে মগন।
                           
                                                                       যেদিকেই          দু'চোখ মেলি,সেদিক মাঝেই
                           তব দয়া দান;
অফুরান           রহমতে যে বান ডেকে যায়
                       সিক্ত করে মন। [ঐ]
                                           
 
নূরের              ঝলক দিলে ধরার পরে,
                            আঁধার করতে দূর ;
নবিরূপে           পেলাম প্রদীপ,দয়া সে যে
                         তোমারই পরম[ঐ]
                                                               

তোমারি         প্রেমের বাণী দাওনি শুধু;
                          দিয়েছ দয়ার নবি,
রবি যে           হার মেনে নেয় দেখে তাঁরই,
                         উজল সে আনন।[ঐ]
                                                                                                         
যেদিকেই           ঘুরে ফিরি উছলে পড়ে
                            তাঁহার এমন নূর
খোদারই           কুদরতে যে কূল মিলে না,
                            হার মানে মনন।[ঐ]


রাসুলের            পরম শীতল বাণীগুলো
                            চোখে এনে দাও;
তোমারি           কোরান হতে বুঝবে ও না'ত-
                             খুঁজবে   দু'নয়ন।[ঐ]


বিপদে           না ডরিতে দিলে তুমি
                        তোমার বন্ধু আউলিয়া
তোমারই        তান এনে দেয় হৃদয়তে,
                           নেয় করে আপন।[ঐ]


অবিরাম           সুর বুনে যায় -কাব্যমালায়
                           তোমার সে কথা;
এ বাণী             অনুগামী হোক নবিজির 
                          হোক সেথা চলন।[ঐ]      

তোমারি           শরণ মাঙে,কাজী নামের
                           লেখক লিখেই যাক 
 নবিজির         প্রেমে  তবে ধরার সবার
                             দাও রাঙিয়ে মন।[ঐ]

লেখাঃ.কাজী আহমদ এয়ার খান নাহিয়ান 

30 January, 2023

অচিন শহর

 


অচিন শহর 

খানিক দ্যুতি যায় ছড়িয়ে দিগন্ত পথ ধরে,
মেঘের দলেও বিস্মিত হয় আলোর সে মন্তরে।

এ কি কোন তারার আলো, দেখছি আঁধার মাঝ,
নাকি জমায় পূবের সীমায় রহস্যেরই ভাঁজ?

দিগন্তে তায়,মেঘ ছুটে যায়,সম্মুখে ওই পানে
প্রভাত কালে নিঝুম ধরা, মানবও অজ্ঞানে।

ভোরের এমন তীক্ষ্ণ আলো, চোখ যে তা না সয়,
কবির কলম থমকে পড়ে, শঙ্কা আনে ভয়।

স্নিগ্ধ কিরণ,শীতল সমীর, মনের অচিন তীরে
দুঃখ, কষ্ট বেদনাকে ঘায়েল করেই ফিরে।

ভয় পেয়ে হয়,নাজুক যেথায় বিশ্বাসেরই ভিত-
কার আসাতে ভরসা মিলে,হৃদয় করে জিত?

ভোরের আলো কোথায় পেলে এমন দ্যুতির খোঁজ?
কার আলোকন তোমার মাঝে চমক আনে রোজ?

সুর্য, সে এক অচিন শহর দেখছে প্রতিদিন,
তারি এমন আলোক আভায় সবার হলো ঋণ।

নামখানি তার মদিনা যে জাগায় প্রাণে সুর
'মুনাওয়ারা' তাইতো হলো, দেয় হৃদয়ে নূর।
 
হেথায় হতে ছড়ায় দয়া,দূর দিগন্ত ও নভে
সৃষ্টিকূল-মহাবিশ্ব কিবা মোদের আপন এ ভবে।

দয়া রাজের দয়া ধ্বনি,হৃদয় দুয়ার খোলা
সত্য হাওয়ায় প্রশান্তিতে মনেরই পাল তোলা।

বখশিশেরই কুঞ্জ মিলে এই দুয়ারে গেলে
আর্তে আনে প্রাণের হাসি,পাওয়ার সবি পেলে ।

নির্ঝরে দেয় যেমন জলের ধারা নিরবধি
তেমনি রচে অকুল পাথার,তাঁর দয়ারই নদী।

সুর্য্যি যেমন ছড়ায় আলো,ধরার সবার তরে;
তেমনি তিঁনি বিত্ত বিলান নিঃস্ব হৃদয় ভরে।

বন্ধু যখন পর হয়ে যায়,সুখ হয়ে যায় বাসি
মাটির ঘরে অশ্রু ভুলান,নিমেষ মাঝেই আসি।

জানতে চাও কি তুমি তাঁরি প্রেমের প্রতিদান?
অসীম সেতো হার মেনে যায়,অঙ্ক হারায় জ্ঞান।

বিশ্বাসেরই একক সে যে ওই মদিনার নাম
জ্ঞানের ছোপে প্রেমেরই রং আঁকছে অবিরাম।

খানিক দ্যুতি দেয় ছড়িয়ে মনেরই প্রান্তরে
রসুল নামের স্নিগ্ধ আভায় হৃদয় পূর্ণ করে।

লেখাঃকাজী আহমদ এয়ার খান নাহিয়ান 

22 November, 2022

মুসলিম হাই স্কুলের গরবগাথা

 মুসলিম হাই স্কুলের গরবগাথা



মুসলিম হাই স্কুলের ছাত্ররা আজ আনন্দে উন্মুখ,
 বিদ্যালয়ের অঙ্গনে তাই জাগায় মনে সুখ।

এতদিন তো যায় নি শোনা,কলধ্বনির ধারা,
এসে দেখো সেই খুশিতে সবাই বাঁধনহারা।

পাতায়- খাতায় স্মৃতি জাগে,প্রাঙ্গনে আর মাঠে,
ধূলাবালি হুল্লোড়ে আর পড়ার আদায় পাঠে।

প্রকৃতির হাঁক জুড়ে যায় আমাদের স্কুলে,
তাই তো কভু রাগ করিনি পড়তে গেলে ভুলে।

সকাল বেলায় আসি মোরা দুপুর শেষেই ফিরি,
না গোনা এই ধাপে যত দীঘল মত সিঁড়ি।

আজকে সেই রূপ দেখে তাই প্রাণের জোয়ার ধায়।
চিরচেনা পরিবেশে ফিরেছে সদায়।

শিক্ষকদের মাণ্য করি, স্মৃরি তাদের দান,
স্নেহের স্মৃতি,হৃদয় মাঝে শ্রদ্ধা ও সম্মান।

মুসলিম হাই স্কুলের গরব গাথা শেষ কি কভু হবে?
আসব সকল হতচ্ছাড়া; প্রমাণ করেই তবে।

লেখাঃকাজী আহমদ এয়ার খান নাহিয়ান
.

08 October, 2022

আবারো ঈদ


আবারো ঈদ

চাঁদ হাসে আসমানে-তবে এলো কোন ঈদ?
খোশ-আমদেদ জাগে প্রকৃতিতে,তবে এলো কোন ঈদ?

চারিদিকে দেখো,এলো হাওয়া তেজ,নিয়ে নেয় পাপভার।
প্রার্থীরা সব দয়া পেয়ে খুশি-প্রতিক্ষণে,প্রতিবার।

ধূলিকণা কেন ভিখ পেয়ে হেথা,হয়ে যায় মহাকাল;
উৎসব আনে সৃষ্টির প্রাণে,দয়া-দানে উত্থাল।

শ্যামলিমা-পথ,মরু-উদ্যান,তরুলতা,ফুল-ফল,
চারদিক জুড়ে,আলো-ছায়া-নূরে,সেজে গেছে অঞ্চল।

মুকুলিত প্রাণ হয় অম্লান,ক্ষণে ক্ষণে তোলে ঢেউ,
কোন সে খুশির ঈদ এলো আজ, উত্তর দাও কেউ।

পেলে আমি খোঁজ,যাব তাঁরি দ্বার,বলে দাও বলে দাও;
ধূলিকণা রেঙে,উৎসব এঁকে বলে,সবুজের কাছে যাও।

সবুজের এই চাঁদোয়ার নিচে আশ্রয়ে আছে সব,
বেলাশেষে তারা ফিরে আসে হেথা,করে মনে উৎসব।

বলো দাও সোজা,বুঝি নাতো এতো;তবে এলো কোন ঈদ?
বারেলির বাঁকে উত্তর আঁকে, নবিজির মাওলিদ।

এলো তবে কি এতোদিন পর,প্রতীক্ষার ভেঙে বাঁধ,
মিলাদুন্নবি হৃদয়ে-হৃদয়ে,আকাশেতে হাসে চাঁদ।।

লেখাঃকাজী আহমদ এয়ার খান নাহিয়ান 

08 January, 2022

ধূপছায়া


সকাল সাঁঝে ভ্রমণরত উত্তরেতে বায়,
"শীত এসেছে",বলল তারা-"জানান দিয়ে যাই"। 

আঁৎকে উঠে বলি আমি, শীতের আগমন? 
দাঁত কপাটি কাঁপায় আমার,ঠান্ডা যে কনকন।। 

শীতে বেজায় ঠান্ডা হাওয়া, ধাওয়া করে মাঠ-
কুহেলিকার চাদর সেথা, বিলায় অস্তপাট।।

গিরির এমন আবছা ছায়া দেখায়নি তো কেউ-
শীতের তরে পেলাম দেখা অপূর্ব এই ঢেউ।। 

শীতের সূর্য রঙিন করে নবীন তরুর দেশ,
ফুলে ফুলে পাখির ভ্রমণ মুগ্ধ করে বেশ।। 

সূর্য কিরণ ক্লান্ত হয়ে বিকেল ফিরে  যায়, 
আবির ছড়ায় লালচে আভা,প্রভুর এই দয়ায়।।

রহস্যরা নতুন করে জাগে শীতে খুব -
রাত্রিশেষের হয়ত কায়া ছায়ার মাঝেই ধূপ।।

©কাজী আহমদ এয়ার খান নাহিয়ান 


28 August, 2021

গুলবাগিচা

খুশির বাঁধ গেল ভেঙে, দয়া মেঙে আজ
গুলবাগিচা উঠলো রেঙে,পেয়ে নবি রাজ।।
 
রুক্ষ মরু,শ্যামল তরুর ছায়ায় বেঁচে রয়,
দোলা লাগে মরুর হাওয়ায়,খুশির ঐ আওয়াজ।

দয়ার দুয়ার গেল খুলে,জোয়ার আনে বান
আশেক প্রাণে,সদায় টানে,রহমতে নেয়াজ।
 
কে এলো আজ অজ্ঞতাই হলো অবসান?
কোন বাদশার শিরে শোভে"খোদার হাবিব" তাজ?

ভ্রান্ত প্রথা-কলুষ কথা, কে ঘুচাল বল?
কার তরে বন্দি শিকল-ভেঙে বিকল আজ?

নবিপ্রেমিক রাঙাও নিজকে মাওলিদের ঈদে
নবির এ দান তোমার আমার (তাই),বেদ্বীন ভুলে লাজ।।

10 August, 2021

পথিকৃৎ

পথিকৃৎ


চলিছে পথিক,তিমির রাত্রি,
একেলা নিঝুম পথে
চক্ষু তাহার ভ্রমিতেছে হায়,
মুসাফির মুসিবতে ।।

পথের প্রান্তরে শেয়ালের ডাক,
নিশিথে দানিল ভয়,
ভয়ার্ত পথিক চলিছে কাঁপিয়া
তবু,মানে নাই পরাজয়।।

পান্থ দেখিল পথেরি পাশে
আঁকা-বাঁকা মোড় কত,
দিশাহীন পথে ছুটিবে কোথায়?
বাঁধা যেথা অবিরত ।।

দূরপথ রেখা,পাইল না দেখা;
নাই কেন কোন আলো,
ঘনিয়াছে যেন আমাবস্যার রাত,
চারদিকে ঘোর কালো।।

মেঠোপথ পাশে বায়ে শত মোড়,
ডানে দেখে সোজা হেথা,
বিষাদগ্রস্থ পথিকের বুকে
তাই বিধিঁল ভয়ের ব্যাথা।।

সহসা তন্দ্রা লাগিল নেত্রে,
 শক্তি   পাইল   বুকে;
"হস্তে প্রদীপ,আলোকিত তায় "
হেরিল সে একোন লোকে?

এবার ঘুম ছুটিয়া পালাইল,
চক্ষু  উঠিল  জাগি,
দিগন্তে কোন প্রদীপ চিহ্ন
দিশা দিল তার লাগি?

অদূরে পথিকৃতের প্রদীপ
দিশা দেয় যেই আলো,
সে আলোয় পথিক খুজে পেল পথ
পেল সত্যের সব ভালো।। 

নকশা মেলিয়া, খানিক দুলিয়া
 হেরিল সেঁ পথিক পানে,
চাঁদহীন রাতে তারকারা সব
জ্বলে ওঠে আসমানে।।

পথিকৃৎ যেন বলিল তাহাকে
এসো এসো এই দিকে-
সত্যের পথ,সাম্যের পথ-
শান্তিচিহ্ন লিখে।।

পথিকৃতের পদধ্বনি শুনি,
পথিক ছুটিয়া চলে
চির- চেনা গন্তব্যে পৌঁছিল তায়
দিশারির আলো জ্বলে।।

পথিক বুঝিল এইবারঃযদি চলে
দিশাহীন,পথহারা প্রান্তরে
সর্বহারার দুয়ারে ভিড়িবে
         --ক্রন্দন অন্তরে।।

বিঃ দ্রঃ উপরোক্ত কবিতাটি রূপক কবিতা
-----শব্দ চাবি-----
তিমির - আঁধার।
ভ্রমিতেছে-- ভ্রম হচ্ছে।
নিশিথ-- রাত্রি।
দানিল- দিল/ দান করল।
পান্থ- পথিক।
হেথা- এখানে।
তন্দ্রা- ঘুম।
নেত্র- চোখ। হেরিল-- দেখল
দিশা দিল-- চিনিয়ে দিল
তার লাগি-- তার জন্য।
পথিকৃৎ - যে পথ দেখায়।
শান্তিচিহ্ন-- ইসলামের চিহ্ন 
পথহারা -- পথ(মাযহাব)হারা বা লা-মাযাহাবি বোঝানো হয়েছে। 

কারবালা

 --কারবালা--

মহররমের চাঁদটা আবার অস্রু নিয়েই ফিরে,
কারবালারই বিষাদগাঁথা, ফোরাত নদীর তীরে।।
নবির আওলাদ ঈমাম হোসাইন শহিদ হলেন যেথা
সে কারবালাতে রক্তচিহ্ন, হৃদয়ে দেয় ব্যাথা।।
ক্ষুদ্রমনা এজিদেরই প্রতারণার ফাঁদ
লোভ- লালসায় মত্ত ছিল,প্রবৃত্তি দেয় সাধ।।
ঈমাম হোসাইন নেয়নি মেনে এজিদের ঐ রীতি,
প্রাণ দিয়েছেন, দেননি ঈমান,চিরসত্য নীতি।।
রাক্তধারা বয়ে চলে,সিমরের খন্জ্ঞরে
বিশ্ববাসী কি হারাল, কারবালা প্রান্তরে??
প্রাণ দিয়ে রক্ষা করেন বিশ্ববাসীর ঈমান
হৃদয়েই জেগে আছেন,তিনি এমনই ইমাম(রা)।
শেষে,রক্তরাঙা বিজয় রবি উদিল ফোরাত তীরে
বীর বিক্রমে হোসাইনী বীর ফিরল স্বর্গ নীড়ে।।

24 July, 2021

প্রকৃতির সভা

 --প্রকৃতির সভা --



আঁধার আকাশে,মেঘ গর্জে,
বহে সুশীতল হাওয়া
বাদলে সবুজ,যেন আরো খোঁজ,
 বাংলাতে এই পাওয়া।।


ক্ষণে ক্ষণে মেঘ,বাতাসের বেগ
বয়ে যায় জোরে
ঝমঝম কলে,ক্ষণপ্রভা জ্বলে
আলোময় হয় দূরে।।


বাদলের ছাপ,মুছে দেয় তাপ
যা প্রকৃতিতে আছে
চলে যায় ছুটে,সব বাঁধা টুটে
ঘন মেঘ আরো কাছে।।

সূর্যের লুকোচুরি,মেঘদলে ঘুরাঘুরি
বজ্র দিগন্তে হাকে
ধূসর আকাশে বাতাস আভাস,
হাতছানি দিয়ে ডাকে।।

অসীম শব্দটি, ছোট্ট অতি
তবু বোঝায় ধারনাতীত,
অবশ্য সাজে,প্রকৃতির মাঝে
নবিﷺ স্তুতি সংগীত।।


যেখানেই যাবে,তব দেখা পাবে
হে রসুলﷺআঁকা!!
যদি আস তাই, এই আত্মায়
আমি পাপী সর্বহারা।।


কত কথা লেখি,প্রকৃতিতে দেখি
সবুজের ঐ আভা !!
মদিনার রং,বেরেলীর প্রাণ
সবুজের এই সভা।।

লেখকঃ নাহিয়ান 
----------শব্দ চাবি------
বেরেলী-আ'লা হযরতের শহর

ক্ষণপ্রভা-খানিক আলো<বজ্রপাত

15 July, 2021

জ্যোর্তিময়(নাতে রসুলﷺ]


 ---------------জ্যোর্তিময়--------------

আলোকদাতা,আলো দাও না নয়নে,
তুমি তো দেনেওয়ালা, আছ এ মনে।।

জগৎ মাঝে,যত আছে,বাঁচে তোমারি দয়ায়,
তুমি চাও যাকে-যেভাবে বাঁচে সে সদায়;
শহর-নগর,দয়ার নজর,গড়ে যে জনে।ঐ।

ব্যাকুল আরশ-পেতে পরশ,নবিﷺ তোমারি
দাঁড়িয়ে সালাম জানায়, ফেরেশতার সারি
সব শয়তান-পালায় ভয়ে,পালায় প্লাবনে(ঐ)

শ্যামল হলো পৃথ্বি-সৃষ্টি,তোমার আগমন--
প্রেমিক সবি,হলো খুশি,(নবিﷺ)তোমার যে আপন,
সৃষ্টি জগৎ,তোমার কথায়, চলে তোমার চলনে(ঐ)

নবিﷺপ্রেমে যার প্রাণ উজালা,
প্রেমাগুনে মন জ্বলে
এ হৃদয়ে নবিরﷺ দেখা পাবি যেমনে(ঐ)

পায়যে মাফী,সকল পাপী (ইয়া রসুলুুল্লাহﷺ)তোমার দুয়ারে,
দ্রোহের জরা যায় যে মুছে, প্রেমের জোয়ারে,
বেদ্বীন-কাফের ঈমান আনে,তোমার চরণে(ঐ)

তোমায় পেয়ে প্রেমিক চোখ অস্রুতে সজল,
নবিপ্রেমের সীমা নাই যে হৃদয়ে অতল,
তোমায় দেখে তোমার গোলাম(ইয়া রসুলুল্লাহﷺ)ভুলে ব্যাথা মরণে(ঐ)
লেখকঃনাহিয়ান
বিঃদ্রঃউপরোক্ত না'তটি আখতার রেযা খান রহ.কর্তৃক রচিত উর্দু নাত "মুনাওয়ার মেরে আঁখো কো,মেরে শামসুদ্দোহা কর দে" দ্বারা প্রভাবিত।।

তুমি রয়ে যাবে

বাংলার যে পলিমাটির সৌরভ   তোমার অস্তিত্ব জুড়ে   তাকে আমি বড্ড ভালোবাসি। কত যাযাবর, কত পথিক,সন্ন্যাসী, কত দরবেশ,  উদাসী কবি, জনেজনে  খুঁজে...

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ