31 December, 2024

 *হাদায়েক্বে বখশিশ

প্রেম কিছু ছিল,সবটাই দিল
দুয়ারে প্রেমাস্পদে,
কথামালা তাই,ফুল হয়ে যায়
জানায় অর্ঘ্য পদে।

যেই স্মৃতি মনে,জেগে ওঠে ক্ষণে
ভাবনায় প্রতিবার,
এবার তবে কি,তাঁরি রূপ দেখি
সে-ই হলো নির্ভার?

ওগো বেরেলীর,হৃদ কোণে নীর
প্রেমবান মহারাজ, 
আছি হেথা দূরে,তান কিছু মোরে
দান করে দাও আজ।

ধূলিকণা জাগে,তব লেখা আগে
শুধু ওই মদিনার, 
বিরহ বচন, করেছে রচন
অশ্রু বিরহে তাঁর।

তোমার লেখায় প্রেম আসে তাই;
জুড়ে যায় কবিতাতে,
তোমার কলম লিখে অনুপম
বোধের স্বরূপ সাথে।

এত প্রেম তবে,ছড়ালো যে নভে
কোথা পেলে তুমি তা?
এত প্রেমসুর,এত সুমধুর 
অপূর্ব সে কবিতা। 

প্রেমাস্পদের,দান যবে ফের
মিলে যায় হৃদ মাঝে,
তব কথাগুলো, যেন পেঁজা তুলো
কবিতাতে তাই সাজে।

ওগো মহারাজ,দাও তবে আজ
কিছু তান কবিদের, 
জাগালো যে প্রাণ,চাইছি সে দান
হাসসান হিন্দের।

পেলাম তখনি তব প্রেমধ্বনি
হাদায়েক্বে বখশিশ,
যখনি বাতাসে আসে,ধীরে আসে
মদিনার শুভাশিস।

ওগো প্রাণনাথ,আলা হাযারাত
তব কথা দাও বলে,
যাই খুঁজে ফিরি,যেন শুধু সিঁড়ি 
চলে ছুটে অতলে।

মদিনার কথা,এক প্রেমপ্রথা
মুকুলিত হৃদয়ে, 
ছুটে চারদিক,সে যে নির্ভীক
দমেনা কভু সে ভয়ে।
২.১২.২৪
✍️:কাজী আহমদ এয়ার খান নাহিয়ান

07 June, 2024

প্রকৃতির গান


মনে পড়ে শুধু, বারেলির কথা

শুধু তার প্রতিদান;

ভাবুকের তরে,দেয় প্রাণ ভরে

জাগরিত আখ্যান।


এনে দেয় ভোর,তাঁর প্রেম সুর

প্রেমভাবে যায় উড়ি,

বাদলের রাশে,ঝিরঝিরে আসে

আবার ইলশেগুঁড়ি।


করে যে অধীর,শীতল সমীর,

প্রকৃতিতে সৌরভ,

হৃদয়ের রাজে এ অর্ঘ্য সাজে

সপে লভি গৌরব।


প্রেম মনোহরা,মুছে দেয় জরা,

যাই ছিল হেথা আজ।

তাও কিরে তবে,হৃদয়ে নিরবে

আসেনি কো মহারাজ? 


তাঁর আগমন,হয়েছে আপন

প্রেমিকের স্মৃতিপটে,

আলোছায়া দিয়ে,আকাশ ছাপিয়ে 

সুদূর মেঘের রথে।


দিয়েছে জানান অপূর্ব তান

সবুজের  আত্নীয়,

যদি দান তাঁর,উছলে আবার

মোরে তার কিছু দিও।


তবে মনে নেই, বাদলের সেই

কাব্যের কথামালা?

তরুলতা সব,রইল সরব

জপনে সাল্লে আলা।


ফিরে পেয়ে প্রাণ,নিকুঞ্জে গান

গেয়ে পাখি তোলে সুর;

স্মৃতি পড়ে মনে,মলিন বদনে

 মদিনা সে কত দূর । 


ক্লান্ত কাব্য বিষন্ন চক্ষে,

অদূরেই সেই পথ!

দূরে অমানিশা, মদিনার দিশা

দেয় আ'লা হযরত।


'সম্মুখে দেখো,তায় লিখে রেখো;

ওই সুর আছে হেথা।'

পথিকের আঁসু, ভগ্ন হৃদয়ে,

দেয় এনে যত ব্যথা।

✒️:কাজী আহমদ এয়ার খান নাহিয়ান 

20.03.23


Photo:Adobe Stock

02 May, 2024

যে শহরে কবিরা মরে যায়

যে শহরে কবিরা মরে যায়, 

সে শহরে মানুষ কিভাবে বাঁচে?

ভাবলেশহীন চলন্ত রোবট কতগুলো

যেথা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। 


সে শহরে কি মানুষ বাঁচে,

যেথা আছে শুধু মানসিকতার দাসত্ব? 

চাকচিক্যের বর্ণনায় ক্লান্ত আর ক্লান্ত

আমরা–

মানবিকতা দিয়েছি বর্গাচাষীর কাছে।


যে শহরে যাপিত জীবন কেবল যন্ত্র-যন্ত্র খেলে,

সে শহর রঙিন, হয় মুখরিত, অর্থ মন্ত্র পেলে।

রঙিন তবুও নয়– সাদাকালো,

জীবনের দেখা ছাঁচে। 


এখন আর কেউ হয়না কবি,

কবিতায় আনে যেন মৃত্যু, 

রঙিন ফুলের সুবাসে পাখিরা সেই সে কবে,

কিচিরমিচির করে ডেকেছিল গাছে গাছে। 


যে শহরে কবিরা মরে যায়, 

সে শহরে কি মানুষেরা আর বাঁচে?

বঞ্চিত হৃদে হাহাকার ধ্বনি

আর ধূর্তরা শুধু নাচে।


মানুষ যেন মানুষ নয়কো,মানুষ শুধুই নামে,

তবে কবিরাও চলবে কি স্বার্থের পিছু পিছু?

কবিতার তরে এতই অবজ্ঞা! আস্তাকুঁড়েই যাও,

তব কাঙ্ক্ষিত পরজীবীদের পাছে পাছে।


সে শহরে কি কবিরা বাঁচে

যেথা মানুষই অনস্তিত্ব? 

নয়? তবে,তা হবে শীঘ্রই 

যদি হৃদয় না রয় কাছে।


কবির লাশের উপর দিও তখন 

ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফুল,

হেরে তায় শরতের সাদা মেঘও হবে বিহ্বল;

দিও ফিরিয়ে তারে আদিম আবাসে,

মুগ্ধতা যেথা আছে। 


✍️:কাজী আহমদ এয়ার খান নাহিয়ান 

২৩.১২.২৩;

চকবাজার, চট্টগ্রাম

তুমি রয়ে যাবে

বাংলার যে পলিমাটির সৌরভ   তোমার অস্তিত্ব জুড়ে   তাকে আমি বড্ড ভালোবাসি। কত যাযাবর, কত পথিক,সন্ন্যাসী, কত দরবেশ,  উদাসী কবি, জনেজনে  খুঁজে...

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ