বাংলার যে পলিমাটির সৌরভ তোমার অস্তিত্ব জুড়ে
তাকে আমি বড্ড ভালোবাসি।
কত যাযাবর, কত পথিক,সন্ন্যাসী, কত দরবেশ,
উদাসী কবি,
জনেজনে খুঁজে ফিরে আমার সে অস্তিত্ব,
আমার বোধের-প্রেমের একটু স্বরূপ।
পথিক ছুটে চলে তবু থামে না তো পথ,
ঘোড়ায় তো চড়ে অনেক বিজয়ী বীর,
তবুও তোমার চলার সে পথ আমায়
ভিন্ন কথাই বলে।
তোমার সে পথ এতো বিস্তৃত, লোকমুখে কত শুনি,
তাই নিরালায় আপন খেয়ালে আমি তব দান স্মরি।
কোথা তুমি ছিলে,কোথা হতে এলে,কোথা ছিল তব গ্রাম?
জন্ম বাংলায় না হলেও বাংলায় আছো,আর রবে জানতাম।
তুমি তো ছিলে শ্যামল হৃদয়, যে মন বাদল ঘেরা
তাইতো বুঝতে ব্যথিতের অনুযোগ, অভিমান।
তোমার সে অস্পষ্ট ছবি তাই খেয়ালি মনেই আঁকি।
মানুষের প্রতি ভালোবাসা তো তুমিই শেখালে মোরে,
ভেদাভেদ আর বৈষম্যের দেয়াল আর রইল না।
চোখে যেন দেখি তোমার সত্যের
সে তলোয়ার
যেন বাংলার যত অলি-গলি-পথ,নদ-নদী সব চেনা।
তোমার সত্য সেই তলোয়ার ছুটে এমন সে যুদ্ধে,
রক্তলোলুপ, অত্যাচারী আর শোষকের বিরুদ্ধে।
নিপীড়িত-অত্যাচারিতের রক্তচিহ্ন তব হৃদে পীড়া দেয়,
আর তবে কোন বসে থাকা নয়,সংগ্রাম চলবেই।
শতাব্দীবেষ্টিত বাংলার যে সংগ্রাম তাতে
তুমিও শামিল হলে,
পথিক কবির যত কথকতা ছিল,আমাদের শোনালে।
তোমার কথা আমি বলিনা,
আমি বলি শাহ জালাল তুমি বাংলাকে
ঠাঁই হিসেবে নিলে আজীবনের তরে,
বাংলা মায়ের কোলে যার চির ঠাঁই তাকে
কি ভালো না বেসে পারা যায়?
হে হযরত,
তোমার পদক্ষেপ আমার
চেতনার সাদা মেঘ,
শাহ জালাল, তুমি যে বাংলায় ছিলে
তার আকাশ ছিল যে নীল।
সময় বয়ে যায়, পলিমাটি নয়
মানুষের ভুলোমন।
কিন্তু এতো উচ্ছ্বল নদীজল
যা পথিকের তৃষ্ণা মেটায়।
হে শাহ জালাল,
একদিন হয়তো বাংলার পথ-ঘাট
ভুলে যাবে তব পদচিহ্ন,
তবুও বলব বাংলার রূপে
শ্যামল বনানী,নদীর স্বরূপে তুমি রয়ে যাবে।
✍️:কাজী আহমদ এয়ার খান নাহিয়ান







-1.jpg)




